স্কীল ডেভেলাপ করতে লার্নিং প্লাটফর্ম কতটা জরুরী ?
বর্তমানে আপনি যে কোন সেক্টরে জব বা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান না কেনো তার জন্যে আপনাকে স্কীল জানতে হয়। স্কীল বলতে বুঝানো হয় আপনি সেই সেক্টরে কাজ করার জন্যে নিজে কতটুকু দক্ষ। আপনার দক্ষতাই আপনাকে জব পেতে হেল্প করে।
স্কীলসেট এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ডোমেইন দেখা যায় আইটি সেক্টরে অর্থাৎ আপনাকে কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়ার, টুলস, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জেনে সেগুলার উপর বিভিন্ন প্রজেক্ট ও পোর্টফোলিও বানাতে হয়।
এই সব সফটওয়ার বলেন, টুলস বলেন না কেনো, প্রায় সব কিছু অনলাইনে এভেইলেবল। গুগল, ইউটিউব ঘাটলে আপনি প্রায় সবই শিখতে পারবেন। প্রশ্ন হচ্ছে – যদি সবকিছু ফ্রিতে পাওয়াই যায় তাহলে কেনো স্কীল ডেভেলাপ করার জন্যে মেন্টরের প্রয়োজন হয়?
এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মিসিং আছে। যেমন –
১। অনলাইনে আপনি শুধু টুলস এর নাম জানবেন, ফাংশনের নাম জানবেন কিন্তু সেগুলার উপর পরিপূর্ণ নলেজ পেতে গেলে রিসোর্স পাবেন না। যেমন আপনি যদি একটি ফুল প্রজেক্ট শিখতে চান, আপনি সেভাবে ইউটিউবে পাবেন না।
২। ইউটিউব বা গুগল থেকে পাওয়া লিঙ্ক গুলো থেকে আপনি স্পেসিফিক কিছু প্রব্লেম এর সলিউশন পাবেন, কিন্তু সে প্রব্লেমগুলোর ব্যাসিক থেকে এন্ড পর্যন্ত পরিপূর্ণ গাইডলাইন খুজে পাবেন না।
মূলত এইখানেই একজন মেন্টরের মূল কাজ। কোন নির্দিষ্ট স্কীল এর উপর মেন্টর – তার মানে সে অলরেডি সেই স্কিল এর ব্যাসিক থেকে এডভান্স পর্যন্ত জানেন, নিজে শিখেছেন, প্রাকক্টিস করেছেন এবং তার একটি ভালো পোর্টফোলিও আছে। এছাড়া –
১। একজন মেন্টর যেভানে বিভিন্ন প্রব্লেম একদম গোড়া থেকে শিখে এসেছেন, প্রব্লেম গুলো নিজে ফেস করে সেগুলা সলভ করেছেন এবং সেটার উপর যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা থেকে আপনাকে ওই স্কিল শেখার সময় আগে থেকেই বুঝিয়ে দিতে পারবেন।
২। একজন মেন্টর পড়াতে পড়াতে বুঝতে পারে স্টুডেন্টদের কোথায় প্রব্লেম হতে পারে, কি কি ফেস করতে হতে পারে এবং স্কীল শিখতে গেলে কি কি ভুল করতে পারে। এর মাধ্যমে একজন নবীন স্টুডেন্ট কোন প্রব্লেম ফেস করলে তাকে খুব বেশী ঘাটাঘাটি করে বের করতে হয় না। মেন্টর তাকে শিখিয়ে দিতে পারেন।
৩। সময় বাচানো – আপনি নিজে থেকে একা একা কোন স্কীল শিখতে গেলে আপনাকে সেটার পেছনে অনেক সময় দিতে হয়। পড়াশুনা করতে হয়। আবার যে সব রিসোর্স এভেইলেবল আছে তার মধ্যে ভালো-খারাপ, বেশী/কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলা আইডেন্টিফাই করা কষ্টসাধ্য। এই জায়গায় একজন মেন্টর আপনার কাজ সহজ করে দেয়। মেন্টর তার নিজের নোটস, টুকলি, কোড, থিওরি ফাইল ইত্যাদি স্টুডেন্ট এর জন্যে রেডি করে রাখে যার ফলে স্টূডেন্টদের সেই সময়টা নষ্ট হয় না।
৪। একজন মেন্টর আপনার স্কীল ডেভেলাপ করার জার্নিকে ইভালুয়েট করতে পারে। আপনি নিজে থেকে আপনার ডেভেলাপমেন্ট বুঝতে পারবেন না। এক্সপার্ট মেন্টরই আপনার ভুল গুলো খুজে বের করে আপনাকে কম সময়ে সঠিকভাবে লার্নিং এর গাইডলাইন দিতে পারে।
৫। একটা গল্প আমরা সবাই জানি। একটা মেশীন নষ্ট হওয়ার পর মেকানিককে ডাকা হয়। মেকানিক সবকিছু দেখে জাস্ট একটা নাট টাইট করে দেয় আর মেশীন আগের মত কাজ করা শুরু করে। মেকানিক বিল বানায় ২০০০ ডলার। তখন মেশীন এর মালিক বলে এই সামান্য নাট টাইট দিতে এতো টাকা !!! উত্তরে মেকানিক বলে – “নাট টাইট দিতে ১ ডলার, আর কোথায় টাইট দিতে হবে সে অভিজ্ঞতার মূল্য ১৯৯৯ ডলার”
সুতরাং, আপনার লার্নিং জার্নি আরো স্মুথ করতে, আরো টাইম সেভিং করতে এবং আপনার স্কীল এর ইভালুয়েট করতে একজন মেন্টর এর গুরুত্ব অপরিসীম।
#datascience #machinelearning #python #statistics #learning #CareerGrowth #careeropportunities