একটা সাক্সেস্ফুল ড্যাশবোর্ড দেখতে কেমন……???
একটা সাক্সেস্ফুল ড্যাশবোর্ড দেখতে কেমন……???
.
বলেন দেখি, একটা ড্যাশবোর্ড সুন্দর হলেই কি সফল হয়? ড্যাশবোর্ড vs রিপোর্টিং: পার্থক্য কোথায়? অনেকেই ভাবেন— ড্যাশবোর্ডে সাকসেস মানে দারুণ একটা টুল বেছে নেওয়া, বা হাজার হাজার ডেটা রাখা। কিন্তু আসল সত্যি হলো:

ড্যাশবোর্ড বানানোই আসল সাকসেস না।

সাকসেস আসে তখনই, যখন সেই ড্যাশবোর্ড সত্যিকারের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
.
তাই ড্যাশবোর্ডকে শুধু visual বানানোর প্রজেক্ট না ভেবে, তিনটি মূল স্তম্ভে ভাগ করে কাজ করতে হবে। যেকোনো একটিও বাদ পড়লে— ইউজার হারানোর সম্ভাবনা অনেক।
.

ফার্স্ট রুল, ডেটা = বিজনেস নিড
অনেক BI প্রজেক্টে দেখা যায়, সবাই প্রথমেই চার্ট বানাতে শুরু করে। কিন্তু আসল প্রশ্নটাই কেউ করে না:
“এই ড্যাশবোর্ডের আসল দরকার কী????”
ধরুন, আপনি একটি রিটেইল কোম্পানিতে কাজ করছেন। ম্যানেজমেন্ট জানতে চায়— কোন শাখায় সেলস কমছে, আর কোন প্রোডাক্টে প্রোমোশন দিলে রেজাল্ট আসবে।
এখানে সঠিক প্রশ্নগুলো হবে:
কোন ডিসিশন নিতে হবে?
কোন KPIs সত্যিই সেই ডিসিশনের সাথে সম্পর্কিত?
কোন ট্রেড-অফ ম্যানেজমেন্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?
এসব বাদ দিলে ড্যাশবোর্ড হয়তো দেখতে ভালো লাগবে— কিন্তু ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে কোন প্রভাবই পড়বে না, এক কথায় আপনার ড্যাশবোর্ড অনেকটা showpiece।
.

সেকেন্ড রুল, ইউজারের জন্য ডিজাইন
বিজনেস অবজেক্টিভ ঠিক করলেই কিন্তু কাজ শেষ নয়। যদি ইউজার ফ্রেন্ডলি না হয়, তবে মানুষ আবার এক্সেল বা পুরনো টুলেই ফিরে যাবে।
ভাবুন, একজন সেলস ম্যানেজারকে দিনে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিতে পারবে তার টিম পারফরম্যান্স দেখার জন্য। কিন্তু আপনি তাকে দেখাচ্ছেন ২০টা চার্ট,রেজাল্ট? আপনার সেলস ম্যানেজার আদ্যোপান্ত বিভ্রান্ত।
তাই আপনার কাজ হলো বোঝা:
কোন তথ্য প্রতিদিন তার দরকার
কোন ফরম্যাটে সহজে গ্রহণযোগ্য
কোন প্রশ্ন বারবার উঠে আসে
যখন ড্যাশবোর্ড তার workflow-এর সাথে মিলে যায়, তখনই সে অভ্যাস গড়ে তুলবে সেটি ব্যবহার করার।
.

থার্ড রুলস, ইনসাইট → ডিসিশন
ড্যাশবোর্ডের কাজ শুধু “দেখানো” না, বরং একশন ট্রিগার করা।

উদাহরণ:
যদি সেলস কমে যায়, সাথে সাথে KPI অ্যালার্ট পাঠাবে।
যদি ম্যানেজার জানতে চান “কেন কমলো?”, তিনি ড্রিলডাউন করে ক্যাটেগরি বা রিজিয়ন খুঁজে বের করতে পারবেন।
আর যদি ড্যাশবোর্ড CRM বা ERP-এর সাথে কানেক্টেড থাকে, তবে আলাদা টুলেও যেতে হবে না।
অর্থাৎ আপনার কাজ হল এমনভাবে ড্যাশবোর্ড তৈরি করা যাতে ইনসাইট থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত আসা যায়। আর সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে আগের চেয়ে faster, clearer, আর more confident।

যখন এই তিনটি পিলার একসাথে কাজ করে, তখন ড্যাশবোর্ড ইউজ করানোর জন্য কাউকে চাপ দিতে হয় না।
.
মানুষ নিজেই এটি ব্যবহার করবে— কারণ এটি তাদের কাজ সহজ করে, সময় বাঁচায় এবং প্রাইওরিটি পরিষ্কার করে।

মনে রাখুন: ড্যাশবোর্ড কোনো রিপোর্টিং টুল নয়।
এটি আসলে একটি decision-support system।